রিভিউয়ে সফল বাংলাদেশ, লাঞ্চের পরই তাইজুলের সাফল্য
খেলাধুলা ডেস্ক:
কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চ পর্যন্ত দুর্দান্ত শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২৪৭ রানে অলআউট করার পর ওপেনিং জুটিতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৩ রান তুলে লাঞ্চে যায় তারা। ২১ ওভার চেষ্টা করেও এই জুটি ভাঙতে পারেনি টাইগাররা।
তবে লাঞ্চের ঠিক পরেই আশার আলো দেখান তাইজুল ইসলাম। লাহিরু উদারার পায়ে লাগা বলের আবেদন আম্পায়ার নাকচ করলেও রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ৮৮ রানে ভাঙে শ্রীলঙ্কার প্রথম জুটি।
এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বিজয়। আসিথা ফার্নান্দোর বলে ব্যাটের ভেতরের কিনারা লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে বল। ইনিংসের শুরুতেই দুইবার জীবন পেয়েছিলেন বিজয়—একবার কিপার কুশল মেন্ডিস এবং পরক্ষণে স্লিপে ক্যাচ হাতছাড়া হয়। তবুও সুবিধা নিতে পারেননি।
দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা স্থিরতা এনে দেন মুমিনুল হক, তবে সেট হয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনিও। ৩৯ বলে ২১ রান করে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর সাদমান ও শান্তের ব্যাটে আসে ৩১ রানের জুটি, কিন্তু হঠাৎ করেই ধস নামে। শান্ত ৩১ বলে ৮ রান করে আউট হন উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হয়ে, এরপরেই ফিরে যান সাদমান—৯৩ বলে ৪৬ রান করে রত্মায়েকের ঘূর্ণিতে ক্যাচ তুলে দেন ডি সিলভার হাতে।
৩৩.২ ওভারে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়, তখন টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৯০ রান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর খেলা ফের শুরু হলে আশা জাগান লিটন ও মুশফিক। তবে লিটনের অপরিণত শটে ভাঙে ৬৭ রানের জুটি। স্লগ করতে গিয়ে একবার জীবন পেলেও পরের ওভারেই উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। সোনাল দিনুশার টেস্ট অভিষেকেই প্রথম উইকেট হয়ে ফেরেন লিটন—৩৪ রান করেন ৫৬ বলে।
শেষ সেশনে মুশফিক-মিরাজের অভিজ্ঞতায় ভর করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার আশা ছিল সমর্থকদের। তবে মুশফিক শট নির্বাচনে ভুল করেন, প্রিয় স্লগ সুইপে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ফেরেন ৩৫ রানে, ৭৫ বলের ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারি মারেন।
চোট কাটিয়ে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। নাঈম হাসানকে নিয়ে ৩৭ রানের জুটি গড়েন। তবে তিনিও বিশ্ব ফার্নান্দোর বল বুঝতে না পেরে স্লিপে ক্যাচ দেন। করেন ৪২ বলে ৩১ রান। নাঈমও খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ২৫ রানে বোল্ড হন।
দ্বিতীয় দিন সকালে আসিথা ফার্নান্দোর বলে এলবিডব্লিউ হন এবাদত হোসেন (৮)। এরপর একাই লড়াই করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ উইকেট হিসেবে ৬০ বলে ৩৩ রান করে আউট হন তিনি, দিনুশার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৭৯.৩ ওভারে ২৪৭ রানে। প্রথম দিন আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৭১ ওভারে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২২০। দ্বিতীয় দিনে যোগ হয় মাত্র ২৭ রান। শ্রীলঙ্কার হয়ে আসিথা ফার্নান্দো ও সোনাল দিনুশা নেন তিনটি করে উইকেট।